ঘোস্ট নাইট - আহসান হাবীব


রাত ১০টায় হঠাত্ বড় মামা এসে হাজির। বাসার ছেলেপেলেরা…মানে বড় বোন শিউলি, যে এবার সদ্য ভার্সিটিতে ঢুকেছে। তার ছোটটা সজীব, কলেজে পড়ে। তার পরেরটা রবীন, এসএসসি দেবে। আর ঝুনু, রুনু গার্লস হাইস্কুলের জেএসসির স্টুডেন্ট। সবাই হাউ মাউ খাউ করে মামাকে ঘিরে ধরল!

মামা, গল্প বলতে হবে কিন্তু।

ভূতের গল্প।

না না, হাসির গল্প, ভূত আমার ভয় লাগে। সবচেয়ে ছোটটা বলে।

না, ভূতের।

কী আশ্চর্য, আগে তো তোদের বাসায় ঢুকতে দিবি, নাকি?

ওদের মা এসে ধমক লাগান। এই তোরা সর তো, ওকে আগে একটু বসতে তো দিবি!

শেষ পর্যন্ত ঘরে ঢুকে বসলেন মামা। পানি খেলেন। প্রাথমিক নাশতা হিসেবে খেলেন চা-বিস্কুট। তারপর বললেন আসার উদ্দেশ্য। অফিসের একটা কী জরুরি কাজে ঢাকায় এসেছেন মামা। তারপর হাত-মুখ ধুয়ে খেতে বসলেন। গল্প শোনার গ্রুপের রাতের খাওয়া আগেই শেষ হয়েছে। তারা দলেবলে পাঁচজন। তবে সবাই বড় মামার খুবই ভক্ত। কারণ একটাই, তিনি বাসায় এলেই অদ্ভুত সব গল্প বলেন এবং বলাই বাহুল্য, সবই ভূতের গল্প।

মামা আয়েশ করে খাচ্ছেন মায়ের সঙ্গে, পারিবারিক নানান গল্প করতে করতে। আর ছেলেপেলেরা আশপাশে ঘুরঘুর করছে কখন মামার খাওয়া শেষ হবে, কখন তিনি গল্প বলা শুরু করবেন। আজ বাবাও বাসায় নেই। অফিশিয়াল ট্যুরে ঢাকার বাইরে, কাজেই ‘জলদি ঘুমুতে যাও’ বলারও কেউ নেই। কাল স্কুলও বন্ধ…সব মিলিয়ে আজ দারুণ এক গোস্ট নাইট!

মায়ের সঙ্গে গল্পগুজব সেরে বিছানায় আসতে আসতে রাত ১২টা বাজল মামার। অবশ্য এটাও ঠিক, ভূত-প্রেতের গল্প একটু বেশি রাতে না হলে ঠিক জমেও না।

মামা বললেন,

কী গল্প শুনবি আজ?

ভূতের…ভূতের…একসঙ্গে চেঁচাল সবাই।

না, আজ একটা সত্যি গল্প বলব।

সত্যি ভূতের গল্প?

সত্যি গল্প, তার ভেতর ভূত থাকতেও পারে, আবার না-ও থাকতে পারে।

না না, ভূত থাকতে হবে।

আহ্ তোরা থাম তো, মামা, তুমি শুরু করো। শিউলি সবাইকে থামায়। কারণ, শিউলি জানে, মামার সব গল্পই ঘুরেফিরে ভূতের ভেতর ঢুকে যাবেই।

আচ্ছা বলো বলো।

অবশেষে বিছানায় আরাম করে দুটো বালিশে হেলান দিয়ে গল্প শুরু করলেন মামা। মামার গল্প বলার স্টাইল অসাধারণ, গল্পের পরিবেশ অনুযায়ী মামার গলা ওঠা-নামা করে। যখন খুব ভয়ের জায়গা আসে, তখন হঠাত্ একদম চুপ হয়ে যান কিছুক্ষণের জন্য, তারপর আবার শুরু করেন। গলার টোন তখন বদলে যায়…আজও সেভাবেই শুরু হলো। তোদের আজ একটা অদ্ভুত গল্প বলব, যা কিনা ভূতের থেকেও ভয়ংকর…

বলো কী! সবাই শিউরে উঠে মামার আরও কাছে ঘেঁষে বসে।

সত্যি গল্প? রবীন জানতে চায়। ধমক লাগায় শিউলি।

আহ্ চুপ কর তো, মামা বলো…। মামা শুরু করলেন।

মকবুল নামে আমার এক চাচা ছিলেন। পেশায় সাংবাদিক, ক্রাইম রিপোর্টার। ঠিক আপন চাচা না, বাবার কেমন যেন ফুফাতো ভাই। তারপরও একসময় আমাদের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তো সেই চাচা একদিন রিটায়ার করলেন চাকরি থেকে। এই চাচা বিয়ে করেননি। ছেলেপুলে নেই, একা মানুষ। রিটায়ার করার পর হাতে বেশ কিছু টাকাপয়সা এল। তা দিয়ে নিজেই ছোট্ট সুন্দর একটা তিনতলা বাড়ি করলেন। নিজেই আর্কিটেক্ট, নিজেই মিস্ত্রি…নিজেই সব। বাড়ি তৈরির পর নিচতলায় থাকেন আর ওপরের দুই তলা ভাড়া দিয়ে দিলেন। ভাড়ার টাকায় দিব্যি চলে যায় তাঁর। চাচার আবার ঘোরার বাতিক আছে। সময় পেলেই দেশের ভেতর বেরিয়ে পড়েন এদিক-সেদিক। কখনো বান্দরবান, কখনো রাঙামাটি। কখনোবা সেন্ট মার্টিন। একা একাই ঘোরেন।

এ রকম একবার ঘুরতে গেলেন টাঙ্গুয়ার হাওরে। সেখানে দু-তিন দিন নৌকায় কাটিয়ে ফিরে এলেন। ফিরেছেন দুপুরের দিকে। বাসার সামনে সিএনজি থেকে নেমে দেখেন, দুটো লোক তাঁর বাসার চারদিকে ফিতে ফেলে মাপজোখ করছে। চাচা অবাক হয়ে বললেন, আপনারা কারা? আমার বাড়ি মাপজোখ করছেন, ব্যাপার কী?

তারা কথা না বলে চাচার দিকে ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে রইল।

কী হলো কথা বলছেন না কেন? আপনারা কারা? ফিতা দিয়ে বাড়ি মাপছেন কেন?

এই বাড়ির যিনি আসল মালিক, তিনি আমাদের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছেন। আমরা বাড়িটা ভেঙে এখানে ১০ তলা অ্যাপার্টমেন্ট করব। তাদের একজন বলে।

মানে? এই বাড়ির আসল মালিক মানে? এই বাড়ির মালিক আমি। নিজ হাতে বাড়ি বানিয়েছি…

জি না, আপনি না। আসল মালিক থাকেন আমেরিকায়। এই যে কাগজপত্র দেখেন—বলে তারা একগাদা কাগজপত্র বাড়িয়ে দেয়।

মকবুল চাচার মাথায় রক্ত উঠে যায়। সারা জীবন সত্ভাবে কাটিয়ে কষ্টের টাকায় বাড়ি বানিয়েছেন আর এখন কোথা থেকে দুই উটকো এসে বলছে এই বাড়ি আরেকজনের!…ফাজলামো? তিনি কাগজপত্র ছুড়ে ফেলে তাঁর পরিচিত এক পুলিশ অফিসারকে ফোন দিলেন তখনই। এমনিতেই ক্রাইম রিপোর্টার ছিলেন বলে অনেক বড় বড় পুলিশ অফিসারের সঙ্গে তাঁর জানাশোনা আছে।

প্রায় সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের সেই অফিসার চলে এলেন এবং সব শুনে সেই দুই চিটকে তাদের ফলস কাগজপত্রসহ থানায় ধরে নিয়ে গেলেন। তাদের বিরুদ্ধে কেস হলো এবং ছয় মাসের জেলও হয়ে গেল, দ্রুত বিচার আইনে। মকবুল চাচা নিশ্চিন্ত হলেন।

গল্প এখানে শেষ হলে ভালোই হতো। কিন্তু গল্প শুরু হলো এখান থেকেই। ছয় মাস পর এক দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন, সেই দুই লোক। তারা আবার ফিতা দিয়ে তাঁর বাড়ি মাপছে! তিনি হতভম্ব!

এই আপানারা আবার এসেছেন?

জি আমরাই। ওই যে বললাম, এই বাড়ির মালিক আপনি না। আমেরিকায় থাকেন। আমাদের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছেন। আমাদের সঙ্গে কাগজপত্র আছে, দেখতে চাইলে দেখতে পারেন। আমরা এই বাড়ি ভেঙে ১০ তলা অ্যাপার্টমেন্ট করব। ভাঙা রেকর্ডের মতো কথাগুলো বলে ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে থাকে মকবুল চাচার দিকে। মকবুল চাচার হঠাত্ করে কেমন যেন ভয় লাগে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে আবার সেই পরিচিতি পুলিশ অফিসারকে ফোন দেন।

এবারও পুলিশ অফিসার দ্রুতই চলে আসেন এবং তিনিও যথেষ্ট অবাক হন। তাদের আবার গ্রেপ্তার করা হয়। তারা খুব শান্ত ভঙ্গিতে পুলিশের গাড়িতে ওঠে। এবং স্থির চোখে তাকিয়ে থাকে মকবুল চাচার দিকে। কোনো কারণ ছাড়াই বুক কেঁপে ওঠে মকবুল চাচার। এবারও ওদের জেলহাজত থেকে কোর্টে চালান করে দেওয়া হয় এবং এবারও দ্রুততম সময়ে ছয় মাসের জেল হয়ে যায় তাদের…সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের জেল।

দিন যায়, মাস যায়। দেখতে দেখতে ছয় মাস কেটে গেল।

হঠাত্ এক সকালে মকবুল চাচা দেখেন, সেই দুই লোক। সেই আগের মতো বাড়ির চারপাশে মাপজোখ করছে। সেই ঠান্ডা চোখের চাহনি। মকবুল চাচা এবার ক্লান্ত স্বরে বললেন, আপনারা?

জি আমরা। ওই যে বললাম, এই বাড়ির মালিক আপনি না। আসল মালিক আমেরিকায় থাকেন। আমাদের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দিয়েছেন, আমাদের সঙ্গে কাগজপত্র আছে। আমরা এই বাড়ি ভেঙে ১০ তলা অ্যাপার্টমেন্ট করব। বলে ঠান্ডা চোখে তাকিয়ে থাকে মকবুল চাচার দিকে। মকবুল চাচার কেমন যেন গা শির শির করে…অন্য রকম এক অনুভূতি! তিনি এবারও সঙ্গে সঙ্গে আবার সেই পরিচিতি পুলিশ অফিসারকে ফোন দেন। বিষয়টা ওনাকে জানান যে ওরা আবার এসেছে। এবার মনে হলো পুলিশ অফিসার একটু বিরক্ত হলেন এবং এই বাড়ি আসলেই তাঁর নামে আছে কি না, এ নিয়ে হালকা সন্দেহ প্রকাশ করলেন। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হচ্ছে, এবার তিনি আগের মতো আর ছুটে এলেন না।

এর মধ্যে অবশ্য আরেকটা ঘটনা ঘটল। সাত দিনের নোটিশে বাড়ি ছেড়ে দিল মকবুল চাচার ভাড়াটে দুজন। মকুবল চাচা অবাক হলেন।

আপনারা বাড়ি ছেড়ে দিচ্ছেন যে? কোনো সমস্যা?

না না, কোনো সমস্যা না। অনেক আরামে ছিলাম এখানে। আসলে অনেক দিন থাকলাম তো আরেকটু বড় স্পেসে…

দ্বিতীয় ভাড়াটেও তা-ই বললেন, তাঁর ছেলে যে নতুন স্কুলে ভর্তি হয়েছে, সেটা এখান থেকে দূর হয়ে যায় ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিন্তু মকবুল চাচার মনে হলো, পুলিশ অফিসারের না আসা, ভাড়াটেদের হঠাত্ বাড়ি ছেড়ে দেওয়া সব কটি ঘটনাই যেন এক সূত্রে বাঁধা। ওই লোক দুটিই যেন সব কলকাঠি নাড়ছে! খুব অসহায় বোধ করলেন মকবুল চাচা। হঠাত্ ভয়ানক এক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন তিনি।

কী সিদ্ধান্ত মামা?

দাঁড়া, তোরা বস, আমি একটু সিগারেট খেয়ে আসি।

না, এখানে বসে খাও।

না না, বাচ্চাদের সামনে ধূমপান স্ট্রিকলি প্রোহিবিটেড।

মামা উঠে গেলেন। ওরা চুপচাপ বসে রইল। সবচেয়ে ছোট দুজনের একজন অবশ্য তখন ঘুমিয়ে পড়েছে। তাকে জাগানো হলো না। বেচারা ঘুমাক, তা ছাড়া সে ভূতের গল্প শুনতেও চাচ্ছিল না। অবশ্য মূল গল্পে এখনো ভূতের আগমন ঘটেনি, তবে গল্পটা মজারই মনে হচ্ছে। মামার সব গল্পে সাধারণত প্রথম দিকেই সরাসরি ভূত চলে আসে, এই গল্পে এখনো ভূত আসেনি। তবে নিশ্চয়ই আসবে। মামা একটা গল্প বলবেন আর ভূত আসবে না তা কী করে হয়!

একটু পরই মামা এলেন। সবার দিকে তাকিয়ে ফের শুরু করলেন গল্প বলা।

কোথায় যেন থেমেছিলাম?

ওই যে মকবুল চাচা ভয়ানক সিদ্ধান্ত নিলেন।

হ্যাঁ, মকবুল চাচা ভয়ানক একটা সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি করলেন কী, লোক দুটোর সঙ্গে একটা বৈঠক করতে রাজি হলেন। তাদের দুজনকে এক রাতে ডাকলেন তাঁর বাসায়। চা-নাশতা খেতে খেতে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তারা রাজি হলো।

সেই বৈঠকের রাতটা ছিল মঙ্গলবার। ঝিরঝির বৃষ্টি হচ্ছিল সে রাতে। যথাসময়ে লোক দুটো এসে হাজির হলো। ড্রয়িংরুমে বসল তারা। তাদের বিস্কুট, চানাচুর দিলেন মকবুল চাচা। তারপর নিজ হাতে বানিয়ে চা দিলেন তাদের। তারা বিস্কুট, চানাচুর খেলো, চা-পানি পান করল।… মামা থামলেন।

তারপর কী হলো?

চা খাওয়ার একটু পরই লোক দুটো ছটফট করতে করতে সোফায় এলিয়ে পড়ল।

মানে?

মানে লোক দুটোকে চায়ের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে চাচা মেরে ফেললেন।

সেকি! সত্যি? তারপর?

তারপর সেই বৃষ্টির রাতে নিজেই বাড়ির পেছনে গর্ত খুঁড়ে দুজনকে একসঙ্গেই মাটিচাপা দিলেন মকবুল চাচা।

একা পারলেন উনি?

উনি বেশ বলশালী লোক ছিলেন, বলাই বাহুল্য। তিনি একাই সব করলেন।

তারপর?

তারপর কী হলো, তোরা বল তো দেখি কেমন পারিস?

আমরা কী করে বলব?

আহা…বলার চেষ্টা কর না এরপর কী হতে পারে?

তারা সবাই গালে হাত দিয়ে ভাবতে বসল। একটু পর শিউলি বলল, ‘এরপর একদিন গভীর রাতে তোমার মকবুল চাচার হঠাত্ ঘুম ভেঙে গেল। খুটখাট শব্দ শুনলেন ঘরের ভেতর। তাকিয়ে দেখেন সেই লোক দুটো ঘরের ভেতর চারদিকে ফিতা দিয়ে তাঁর খাটটা মাপছে!’

বাহ্ ভালো বলেছিস তো। আর কেউ বলবি?

আমি বলতে চাই। হাত তুলল রবীন। এবার এসএসসি দেবে সে।

বল।

পরদিন সকালে পুলিশ এসে গ্রেপ্তার করল মকবুল চাচাকে।

উফ্! এটা হলো কিছু? পুলিশকে তো আগে জানতে হবে দুটো লোক খুন হয়েছে। তারপর না তারা গ্রেপ্তার করতে আসবে।

ও একটা গাধা! মামা, তুমিই বলো না তারপর কী হলো?

তারপর ঠিক এক বছর পর এক সন্ধ্যায় মকবুল চাচা দেখেন সেই লোক দুটো…হুবহু সেই লোক দুটোই, সেই একই জামাকাপড়, সেই একই তাকানোর ভঙ্গি! তাঁর বাসার সামনে দাঁড়িয়ে ফিতা দিয়ে মাপজোখ করছে বাড়িটা।

তারপর মকবুল চাচা কী করলেন?

মকবুল চাচা ছিলেন ক্রাইম রিপোর্টার। নিজের সিকিউরিটির জন্য একটা লাইসেন্স করা পিস্তল ছিল তাঁর। সেই পিস্তল নিয়ে তিনি বাথরুমে ঢুকলেন।

তারপর?

তারপর মকবুল চাচার প্রতিবেশীরা একটা গুলির শব্দ শুনতে পেল সেই সকালে!

তার মানে আত্মত্যা করলেন তোমার চাচা?

হ্যাঁ। যা, গল্প শেষ এবার সবাই ঘুমাতে যা। রাত অনেক হয়েছে।

কিন্তু ওই বাড়িটার কী হলো?

ওই বাড়ি এখনো আছে। মকবুল চাচার ছোট ভাই বাড়িটা সরকারের ওয়াক্ফ স্টেটে দান করে দেন।

ওই লোক দুটো? তাদের কী হলো?

মকবুল চাচার মৃত্যুর পর তাদের আর দেখা যায়নি।

বাড়িটা কোথায়? আমরা দেখতে যাব।

আচ্ছা যাস…এখন যা, যার যার বিছানায় যা। বলে মামা কাঁথা দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলেন। অর্থাৎ তোমরা যাও, আমি এবার ঘুমাব।

No comments