বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের জীবনের ১০টি মজার ঘটনা


আইনস্টাইন শুধু একজন উচ্চ বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন মানুষই ছিলেন না, তার রসবোধ ছিল অত্যন্ত উঁচুমাপের। ব্যক্তিগত জীবনে সহজ-সরল এই মানুষটি কখনো ব্যঙ্গাত্মক, আবার কখনো প্রচণ্ড রসিকতার পরিচয়ও দিয়েছেন। তার ভুলোমনা মনোভাবও অসংখ্য মজার কাহিনীর জন্ম দিয়েছে।

সেসব কাহিনী থেকে বাছাই করা ১০টি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

১. আইনস্টাইন একবার ট্রেনে চেপে কোথাও যাচ্ছিলেন। ট্রেনের টিটি সবার টিকেট চেক করতে করতে আইনস্টাইনের কাছে এসে টিকেট দেখতে চাইলেন। কিন্তু আইনস্টাইন তার টিকেটটি খুঁজে পাচ্ছিলেন না। কিন্তু এরই মধ্যে ওই টিটি আইনস্টাইনকে চিনতে পেরে বললেন, ‘স্যার, আমি আপনাকে চিনতে পেরেছি। আপনি নিশ্চয়ই টিকেট কেটে উঠেছেন। আপনাকে টিকেট দেখাতে হবে না।’

আইনস্টাইন কী যেন ভাবলেন, তারপর কিছুটা চিন্তিত ভঙ্গিতে বললেন, ‘না, না, ওটা আমাকে খুঁজে বের করতেই হবে। না পেলে আমি জানব কী করে যে, আমি কোথায় যাচ্ছি!’

২. এক অনুষ্ঠানে আইনস্টাইনকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘আপনি একটু সহজ করে আপনার তত্ত্বটা বোঝাবেন?’ আইনস্টাইন তখন একটা গল্প শোনালেন।

গল্পটা তিনি বললেন এভাবে- আমি আমার এক বন্ধুর সঙ্গে হাঁটছিলাম। বন্ধুটি ছিল অন্ধ। তাকে বললাম, ‘দুধ পান করতে চাও? দুধ?’ বন্ধুটি বলল, ‘পান করা বুঝি, কিন্তু দুধ কী জিনিস?’ ‘একটা সাদা তরল পদার্থ’, বললাম আমি। ‘তরল বুঝি, কিন্তু সাদা জিনিসটা আবার কী?’, বন্ধু জিজ্ঞেস করল। আমি বললাম, ‘বকের পালকের রঙ।’ বন্ধু বলল, ‘পালক তো বুঝলাম, কিন্তু বক কী?’ ‘ঘাড় কুঁজো বা বাঁকানো ঘাড়ের এক পাখি।’ ‘ঘাড় বুঝলাম, কিন্তু এই কুঁজো কথাটার মানে কী?’ এরপর আর ধৈর্য থাকে, বলুন! আমি তার হাতটা ধরে টানটান করলাম। বললাম, ‘এটা এখন একদম সোজা, তাই না? তারপর ধর, কনুই বরাবর এটা ভেঙে দিলাম। এবার তোমার হাতটা যেমন আছে সেটাকেই বলে কুঁজো, বুঝলে?’ অন্ধ বন্ধুটি খুশি হয়ে বলল, ‘এবার বুঝেছি, দুধ বলতে তুমি কী বুঝিয়েছ!’

৩. ১৯৩১ সালে কৌতুক অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন আইনস্টাইনকে আমন্ত্রণ জানান তার ‘সিটি লাইটস’ সিনেমার শো দেখার জন্য। শো শেষ হলে তারা দুজন শহুরে রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছিলেন। সে সময় চ্যাপলিন আইনস্টাইনকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘সবাই আমাকে সহজেই বোঝে, এজন্যই আমার এত জনপ্রিয়তা। কিন্তু মানুষ আপনাকে কেন এত পছন্দ করে বুঝলাম না।’

আইনস্টাইন সহাস্যে উত্তর দিলেন, ‘কেউ আমাকে সহজে বুঝতে পারে না বলেই আমার এই জনপ্রিয়তা।’

৪. এক সহকর্মী একদিন আইনস্টাইনের কাছে তার টেলিফোন নম্বরটা চাইলেন। আইনস্টাইন তখন একটি টেলিফোন বই খুঁজে বের করলেন এবং সেই বই থেকে তার নিজের নম্বরটা খুঁজতে লাগলেন।

সহকর্মী তাকে বললেন, ‘কী ব্যাপার, নিজের টেলিফোন নম্বরটাও মনে নেই আপনার।’

আইনস্টাইন বললেন, ‘না। তার দরকারই বা কী? যেটা আপনি বইতে পাবেন, সে তথ্যটা মুখস্ত করে মস্তিষ্ক খরচ করবেন কেন?’

৫. আইনস্টাইনের কাছে একবার আপেক্ষিকতার সহজ ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হলো। উত্তরে আইনস্টাইন বললেন, ‘আপনার হাত একটা জ্বলন্ত চুলার ওপর ধরে রাখুন, মুহূর্তেই মনে হবে ১ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। কিন্তু একজন সুন্দরী মেয়ের পাশে ১ ঘণ্টা বসে থাকুন, আপনার মনে হবে মাত্র এক মিনিটেই সময়টা পার হলো…এটাই আপেক্ষিকতা।’

৬. একবার আইনস্টাইন বাইরে থেকে বাসায় ফিরে দরজায় কড়া নাড়লেন। ভেতর থেকে তার স্ত্রী ভাবলেন কেউ হয়তো আইনস্টাইনকে খুঁজতে এসেছেন, তাই তিনি বিরক্ত হয়ে চেঁচিয়ে বললেন, ‘আইনস্টাইন বাড়িতে নেই।’ ব্যস, চিন্তিত আইনস্টাইন কোনো কথা না বলে উল্টো হাঁটা ধরলেন।

৭. হাস্যরসপ্রিয় আইনস্টাইন তার যুগান্তকারী আপেক্ষিক তত্ত্বের আবিষ্কার নিয়ে কৌতুক করে বলেছিলেন, আমার আপেক্ষিক তত্ত্ব সত্যি প্রমাণিত হয়েছে। এবার জার্মানি বলবে আমি জার্মান আর ফরাসিরা বলবে আমি বিশ্ব নাগরিক। কিন্তু যদি তত্ত্বটি মিথ্যা হতো, তাহলে ফরাসিরা বলত আমি জার্মান, আর জার্মানরা বলত আমি ইহুদি।

৮. আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্বের জটিলতা এবং দুর্বোধ্যতা নিয়েও কিছু মজার কাহিনী আছে। একদিন এক তরুণী তার প্রেমিকের সঙ্গে গির্জার যাজকের পরিচয় করিয়ে দিল। পরদিন যাজক ওই মেয়েটিকে বললেন, তোমার প্রেমিককে আমার সব দিক থেকেই ভালো লেগেছে শুধু একটি বিষয় ছাড়া।

মেয়েটি জিজ্ঞেস করল, কোন বিষয়? ফাদার বললেন, তার কোনো রসবোধ নেই। আমি তাকে আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্বের কথা জিজ্ঞাসা করেছি আর সে আমাকে তা-ই বোঝাতে শুরু করে দিল। হাসিতে ফেটে পড়ল সুন্দরী মেয়েটি।

৯. ছোটবেলায় তুলনামূলকভাবে অনেক দেরিতে কথা বলতে শেখেন আইনস্টাইন। তার মা এ ব্যাপারে অনেক দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এক রাতে খাবার টেবিলে বসে সবাই খাচ্ছেন, এমন সময় ক্ষুদে আইনস্টাইন চিৎকার করে উঠলেন, ‘এই সুপটা বড্ড গরম!’

ছেলের মুখে কথা ফুটেছে শুনে মায়ের সে-কী আনন্দ। ছেলের মুখে প্রথম কথা শুনে বাবা-মা বেশ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আগে তুমি কথা বলনি কেন?’

উত্তরে আইনস্টাইন বললেন, ‘আগে তো সব ঠিকই ছিল।’

১০. এক সন্ধ্যায় প্রিন্সটনের ডাইরেক্টরের বাড়িতে ফোন এলো- ‘দয়া করে যদি আইনস্টাইনের বাড়ির নম্বরটা জানান!’ আইনস্টাইনের বাড়ির নম্বর কাউকে জানানো হবে না- কঠিন গলায় তা জানিয়ে ফোনটা নামিয়ে রাখলেন ডাইরেক্টর।

খানিক পরে আবার ফোন বেজে উঠল। ওপাশ থেকে শোনা গেল, ‘আমি আইনস্টাইন বলছি, বাড়ির নম্বর আর রাস্তা দুটোই ভুলে গেছি! দয়া করে যদি বলে দেন।’

No comments